বাংলাদেশে কবে চালু হবে ৫জি ইন্টারনেট, কত হবে এর স্পিড ?

বাংলাদেশে কবে চালু হবে ৫জি ইন্টারনেট, কত হবে এর স্পিড ?

বাংলাদেশে ০৪ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ৪জি ইন্টারনেট সেবার যাত্রা শুরু হয়। আর ৪জি ইন্টারনেটের পর বাংলাদেশে কবে চালু হবে ৫জি ইন্টারনেট এবং কত হবে এর স্পিড ? এটা জানতে অনেকের মাঝেই কৌতুহল জাগে।

বাংলাদেশে কবে চালু হবে ৫জি ইন্টারনেট, আর কত হবে এর স্পিড ?

তো চলুন জানা যাক,

বাংলাদেশে চলতি বছর ২০২১-২০২৩ এর মধ্যেই পরীক্ষামুলকভাবে উচ্চ গতির ৫জি ইন্টারনেট চালু হবে বলে জানা গেছে।

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেনঃ ৫ম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ৫জি ইন্টারনেট দ্রুতই আমাদের দেশে চালু করা হবে। আমরা আশাবাদী যে চলতি বছর ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যেই এ প্রযুক্তি বাংলাদেশে চালু করতে পারব যা উন্নতবিশ্বের অনেক দেশেই পারবে না ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিগত বিশ্ব বাস্তবায়িত করতে এখনই বিস্তৃত পরিসরে ফাইভজি নয়, তাই 4G সেবা কি আরও মান-সম্মান তো করার জন্য এ বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শাহাবুদ্দিন দেশের জনপ্রিয় খবর প্রকাশক পত্রিকা সমকালকে জানিয়েছেন, চলতি বছরের আগামী ডিসেম্বরের শুরুর দিকেই পরীক্ষামূলক ভাবে 5G ইন্টারনেট সেবা চালু করবে টেলিটক। অন্যদিকে, ফাইভজি প্রযুক্তি যন্ত্রপাতি সরবরাহ এর জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দুটি চীন কোম্পানি- জেডটিই করপোরেশন ও হুয়াওয়ে।

৫জিতে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে:

smartcities

আগের থ্রিজি ও ফোরজি প্রযুক্তিতে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বেড়েছে। সেই গতি আরও অনেক বাড়িয়ে দেবে ফাইভজি ইন্টারনেট। প্রযুক্তির কারিগরি দিক অনেকটাই আলাদা। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় থ্রিজি ও ফোরজি প্রযুক্তিতে বেতার তরঙ্গ ব্যবহারের মাধ্যমে সেসব দুর্বলতা রয়েছে, ফাইভ-জি তে নেই।

এই প্রযুক্তিটি পরিষেবা এবং গতির অনেক উচ্চতর এবং উন্নত মানের নিশ্চিত করতে অনেক কম রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। যদিও ৫জি লঞ্চের শুরুতে একটি বৃহত বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে, পরিষেবা স্তরের অপারেটররা আরও বেশি সাশ্রয়ী মূল্যের মূল্যে পরিষেবা সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

গ্রাহকরাও অনেক পর্যায়ে আগের চেয়ে কম টাকায় উন্নত সেবা পেতে পারবে। তবে এই সেবার সাধারন গ্রাহকের চেয়ে শিল্প উৎপাদন এবং বৃহৎ ব্যবসায়িক কার্যক্রম দের জন্য বেশি উপযোগী হবে বলে জানিয়েছেন তারা। ফোরজি সেবাই সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এখন পর্যন্ত আদর্শ সেবা।

ফাইভজির মাধ্যমে হাই ডেফিনেশন বা উন্নত মানের ভিডিওচিত্র আদান-প্রদানের সম্ভব হবে। এর ফলে টেলি-চিকিৎসা, টেলি ক্লাসরুমের মত পদ্ধতি গুলো জেমনি আরো জনপ্রিয় হতে থাকবে, তেমনি স্মার্ট সিটির তৈরি করতে নতুন ধরনের সেবা চালু হবে। স্মার্ট কার পারকিং, স্মার্ট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ভবনের স্মার্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ সিটি কর্পোরেশনের মত জনসেবা দেওয়া সংস্থাগুলো ও সেবার ক্ষেত্রে ইস্মার্ট ব্যবস্থা চালু করতে পারবে খুব সহজে।

স্মার্ট শিল্প-কারখানা ব্যবস্থাও চালু করতে সম্ভব হবে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের মাধ্যমে। উন্নতমানের কয়েকটি দেশে শিল্প-কারখানায় এই স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যা তাদেরকে পরিচালন অনেকখানি কমিয়ে দিয়েছে এই স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হওয়ার কারণে। এর পাশাপাশি প্রত্যান্ত যেসকল অঞ্চলে ফাইবার অপটিক ক্যাবল নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

সেই সকল এলাকা বা অঞ্চলে ফাঁসির মাধ্যমে মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে অনেকটাই ঝামেলাহীন ভাবে। বর্তমানে দেশে 4জি পরিষেবাগুলিতে 45 এমবিপিএস (সেকেন্ডে প্রতি মেগাবাইট) গতিতে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহ করা সম্ভব। গিগাবাইট শ্রেণির প্রযুক্তি ব্যবহার করে, গতি এক হাজার এমবিপিএস বা এক জিবিপিএসে বাড়ানো সম্ভব হবে।

কিন্তু ফাইভ-জি তে গতি পাওয়া যাবে ৫ জিবিপিএস থেকে ১০ জিবিপিএস পর্যন্ত। অর্থাৎ 4g তুলনায় ফাইভজিতে ইন্টারনেট গতিবেগ হবে পাঁচ থেকে দশ গুন বেশি।

প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহ করা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি:

প্রতিষ্ঠানটি জেডটিই জানিয়েছে, মোবাইল অপারেটরদের ফোরজি সেবা কে পঞ্চম প্রজন্মের সেবায় রূপান্তরিত করতে ‘ডায়নামিক স্পেকট্রাম শেয়ারিং (ডিএসএস)’ প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ এরই মধ্যে শুরু করা হয়েছে। জেডটিই সুপার ডিএসএস নামে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্তমান তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক এর সেবা বজায় রেখে ট্রাই রেডিও এক্সেস টেকনোলজির মাধ্যমে পঞ্চম প্রজন্মের 5G প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত ঘটায়।

প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের তরঙ্গ সেবায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইথ সীমার মধ্যে থেকে ২ দশমিক ১ গিগাহার্টজ স্পেকট্রামে জেডটিইর সুপার ডিএসএস প্রযুক্তির বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার অপারেটরদের নেটওয়ার্ক পরীক্ষায় দেখা গেছে ২ দশমিক ১ গিগাহার্টজ তরঙ্গে ফাইভজি চালু করা সম্ভব হবে।

চীনের ওপর বৃহৎ প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরইমধ্যে ফাজিল পরীক্ষা মূলক সেবার কাজ সম্পন্ন করেছে। কোম্পানিটি বাংলাদেশ প্রযুক্তি হিসেবে ফাইভজি প্রযুক্তির সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে একটি প্রদর্শনী কাজ সম্পন্ন করেছে। কোম্পানিটি বাংলাদেশ প্রযুক্তি হিসাবে ফাইভজি সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে একটি প্রদর্শনী কাজ সম্পন্ন করেছে ইতিমধ্যে।

COVID-19 মহামারীর আগে আগে থেকেই ‘ইনোভেশন টু অ্যাডভান্স ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ কে ফাইভজি নেটওয়ার্কের সম্ভাবনার দিক তুলে ধরেছে অনেক আগে থেকেই। বিশেষ করে এই স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মানুষের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয় এই প্রদর্শনীতে।

সর্বশেষ চলতি বছরে চীনের সেনজেন শহরে এবং ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুষ্ঠিত হুয়াওয়ের গ্লোবাল এনালাইটিক সম্মেলন ২০২১ এর আয়োজনে পুরো আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল সামনের বছর গুলোতে কিভাবে ফাইভ জির সম্ভাবনা আনা যায়।

কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ :

এর আগে থ্রিজি ও ফোরজি সেবা নিয়ে বাংলাদেশকে গ্রাহকদের মধ্যে সমালোচনা থাকলেও এর বাস্তবতা হচ্ছে, টুজির থেকে থ্রিজিতে গতি বেশি হয়েছে, ফোরজিতে হয়েছে আরও একটু বেশি। এখন বাংলাদেশের গ্রাহকরা স্মার্টফোনে হাই-ডেফিনেশন ভিডিও দেখতে পাচ্ছেন ফোরজি সেবা ব্যবহার করে।

একটি মোবাইল ফোনের অপারেটরের একজন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ফাইভ-জি চালুর ক্ষেত্রে অপারেটরদের বড় বিনিয়োগ করার বিষয়টি রয়েছে। এছাড়াও বেতার তরঙ্গের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবে দেখতে হবে।

ফাইভ জির জন্য এখন পর্যন্ত আদর্শ বেতার তরঙ্গ হচ্ছে ২৬০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড। পাশাপাশি অন্য মেগাহার্টজ ব্র্যান্ড যেমন ১৮০০ ও ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডেও এই সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু সরকারি নীতিতে সুলভে বেতার তরঙ্গ দেওয়ার এবং সঠিক ব্রান্ডের বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ নেওয়ার নীতি গ্রহণ করা অতি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, থ্রিজি ও ফোরজি ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটররা বেতার তরঙ্গ সুলভ মূল্যে পায়নি ।

এজন্য উচ্চ বিনিয়োগ করে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। পাবজি তে অপারেটররা এই ঝুঁকি নিতে চায় না বলে তিনি জানিয়েছেন। এখন ফোর-জি সেবার মান আরো বেশি উন্নত করতেই অপারেটররা বেশি নজর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালুর বিষয়টি পিছনে পড়ে গেছে। বরং ফোর-জি প্রযুক্তি সেবার মান বাড়ানোর দিকেই এখন বড় দেশগুলো নজর দিয়ে যাচ্ছে।

এমনকি বাংলাদেশেও একই ধরনের নীতি গ্রহণ করেছে। এর আর একটা বড় কারণ হচ্ছে, ফাইভ-জি মূলত সাধারণ গ্রাহকদের জন্য উপযোগী হবে না বা অনেক বেশি উচ্চাভিলাষী প্রযুক্তি। এটা উপযোগী হবে শিল্পপণ্য উপাদান খাত, বড় ব্যবসায়ী কার্যক্রমের জন্য।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স এর মতো যে সকল নতুন শিল্পে বিশ্ব প্রবেশ করবে সেখানে ফাইভ জি চালু হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে টেলিটক যোগাযোগ মাধ্যম।

Watch Video About Internet Generations.

What is 1G,2g, 3G,4G,5G? All about Internet Generation explained in Bangla.

৫জি নিয়ে Wikipedia এর ব্লগ পড়ুন তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে আরও পড়ুন

আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *