স্মল বিজনেসে উন্নতি করার ১০টি সহজ উপায়
স্মল বিজনেসে উন্নতি করার ১০টি সহজ উপায়

স্মল বিজনেসে উন্নতি করার ১০টি সহজ উপায়

ব্যবসার নিয়মিত প্রসার ঘটলেই তা সাফল্য ও স্থায়িত্ব অর্জন করে। নিয়মিত ক্যাশ ফ্লো পর্যবেক্ষণ, সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগানো, শক্তিশালী দিক চিহ্নিত করা এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল ক্ষেত্রগুলিতে অন্যের সাহায্য নেয়া—ব্যবসার উন্নতিতে সাহায্য করে এই বিষয়গুলি। নিচের পয়েন্টগুলিতে মনোযোগ দিলে স্মল বিজনেসে উন্নতি সহজ হয়ে ওঠে।

১. হিসাব রাখা:

খুব কম স্মল বিজনেসই দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক লেনদেনের সঠিক হিসাব রাখে। ক্যাশ ফ্লো আপডেটেড রাখতে এর পেছনে যথেষ্ট সময় দিন। আপনি একা ঠিকমতো হিসাব রাখতে না পারলে একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট নিয়োগ দিন। তবে সবকিছু তার হাতে ছেড়ে না দিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখুন।

২. লক্ষ্য নির্ধারণ করুন:

হিসাব রাখার মতোই নিয়মিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করাও ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গোল ঠিক রেখে প্ল্যান করুন। ওয়েবসাইটে, ব্লগে বা সোশ্যাল মিডিয়া পেইজগুলিতে ট্রাফিক বাড়াতে চেষ্টা করুন।

৩. কার্যকর মার্কেটিং কৌশল ব্যবহার করুন:

অকার্যকর মার্কেটিংয়ে টাকা নষ্ট হয়। অল্প বাজেটের মধ্যে কার্যকর মার্কেটিংয়ের কৌশল খুঁজে বের করুন। নতুন কৌশল পরীক্ষা করে দেখুন কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তারপর সেটিকে আপনার নিয়মিত মার্কেটিং ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করে নিন। উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় কম খরচে ও কম ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে আপনার ব্যবসার প্রচার চালাতে পারবেন।

৪. বিজনেস প্রেজেন্টেশনে দক্ষতা বাড়ান:

একটি আকর্ষণীয় বিজনেস প্রেজেন্টেশনের অপরিহার্য অংশগুলি কী তা জানুন। দর্শকদের আকৃষ্ট করতে কিছু অপ্রত্যাশিত জ্ঞানের কথা বলতে পারেন। তবে, প্রেজেন্টেশনে অতিরিক্ত তথ্য বোঝাই করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখুন।

৫. বিভিন্ন ট্রেন্ড পরীক্ষা করুন:

কোনো ব্যবসাই সবসময় একরকম চলে না। বিশ্বব্যাপী ঘটা কোনো ঘটনা বা পরিবর্তনও ব্যবসাকে প্রভাবিত করে। আপনার ইন্ডাস্ট্রিতে কী ট্রেন্ড চলছে ও কী ঘটনা ঘটছে তার খোঁজ রাখুন। আপনার কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হয় এমন বিষয়গুলিও ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।

৬. বিক্রয়ের দক্ষতাকে শাণিয়ে নিন:

যদি একাই সব করে থাকেন বা একটা সেলস টিম পরিচালনা করে থাকেন, তাহলে বিক্রয় বাড়ানোতে মনোযোগ দেয়া আপনার জন্য আবশ্যক। নিজের শক্তিশালী দিকগুলি ও কাকে কী কাজে লাগাতে হবে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে আপনার দূরদর্শিতা বাড়বে। লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কী করা প্রয়োজন তাও বুঝতে পারবেন।

৭. সেরা পদ্ধতি খুঁজে বের করুন:

সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হচ্ছে সব আনুষ্ঠানিকতার উর্ধ্বে গিয়ে সবার সাথে কার্যকরভাবে যোগাযোগ স্থাপন করা, সবকিছু সাবলীলভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করা এবং অনুমোদন দেয়া। আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে সব কাজের হিসাব রাখা যাতে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যায়।

৮. কর্মচারীদের অনুপ্রাণিত করা:

মেধাবী ও অনুপ্রাণিত কর্মচারীরা ব্যবসায় বড় উন্নতি ও সাফল্য নিয়ে আসতে পারে। কোন বিষয়গুলি আপনার কর্মচারীদের পারফরম্যান্সের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে তা লক্ষ্য করুন। এর জন্য আপনাকে সিনিয়র জুনিয়র সব কর্মচারীদের কথা ও আইডিয়া শুনতে হবে। অভিজ্ঞ কেউ থাকলে অসাধারণ কোনো আইডিয়াও পেতে পারেন।

৯. নিজের সীমাবদ্ধতা জানুন:

সফল ব্যবসায়ীরা তাদের সীমাবদ্ধতা কোথায় সেটা খুব ভালো করে জানেন। আপনি উদ্যোক্তা হিসেবে কেমন তা জানা থাকলে ভালোভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। তখন দুর্বল দিক সমাধানে মনোযোগ দিতে পারবেন। এটিই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। যেমন, বিক্রয়ের দিকটায় হয়ত আপনার ভালো অভিজ্ঞতা আছে কিন্তু হিসাবরক্ষণে খুব একটা নেই। এমন হলে, শুধু সেলসে মনোযোগ দিন আর হিসাব রাখার জন্য কাউকে নিয়োগ দিন।

১০. বিরতি নিন:

একটি স্মল বিজনেস চালানো কঠোর পরিশ্রমের কাজ। মাঝেমাঝে ব্যবসার উন্নতি ও আগ্রহকে পুনর্জীবিত করার সেরা উপায় হচ্ছে ছুটি নেয়া। কাজ থেকে দূরে কিছু সময় কাটানোর গুরুত্বকে অগ্রাহ্য করবেন না। ছুটি কাটালে আরো সতেজ মন নিয়ে কাজে ফিরতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *