শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব!

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব!

খেলা;

১-৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য আমরা পেশা বলতে পারি।কারণ এই বয়সটাতে শিশুরা প্রচুর খেলতে ভালোবাসে।কিন্তু টিক এক এই জায়গা থাকে আমাদের অনেক অভিবাবক এর মাঝে একটা আপত্তি কাজ করে। আমার ছেলে বা মেয়ে এত কোনো খেলবে ,খেলাধুলা বেশি করলে সময় নষ্ট পড়াশুনা থেকে মনোযোগ উঠে যাবে ইত্যাদি। আমাদের মধ্যে এমন অনেক অভিভাবক আছেন যারা খেলাটা কে খুব ছোট করে দেখে। আমরা এই ভাবে কোনো চিন্তা করি?

খেলা একটা শিশুর জন্য কতটুকু শিক্ষণীয় ,আমাদের শিশুদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ এর জন্য কতো গুরুত্বপূর্ণ আমরা অধিকাংশ অভিবাবক এটা নিয়ে জানার চেষ্টা করি না। আজ আমি আপনাদের জানাবো একটা শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ এর জন্য খেলা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি নিজেকে একজন ভালো অভিভাবক (পিতা /মাতা )দাবি করেন তাহলে অবশ্যই আপনার শিশুর জীবন যাত্রায়/তার বেড়ে উঠায় খেলাধুলা নিশ্চিত করবেন।

 

খেলাধুলার উপকারিতা;

 

১/শারীরিক ও মানসিক বিকাশ;

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রথম ৫ বছর অনেক গুরুত্বপূর্ণ।এই সময়টা তে শিশুদের ব্রেইন এর হাজার হাজার (neuronal connections) তৈরি হয়। neuron হলো আমাদের ব্রেইন এর সেল বা একক। আরো সহজ করে যদি বলি একটা নতুন ঘর তৈরি করতে যেমন একটা একটা করে ইট স্থাপন করতে হয় তেমনি শিশুদের ব্রেইনে একটা একটা করে হাজারটা সেল তৈরি হয়। তখন আমরা যা দেকি যা করি সব কিছু একটা একটা করে আমাদের ব্রেইনে neuronal connections তৈরি করে যার জন্য আমাদের ব্রেইন এর সাইজ বড় হয়। শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন রিসার্চ করে দেখা গেছে ছোট বেলায় তাদের বেড়ে উঠায় যথেষ্ট উপযুক্ত পরিবেশ বা খেলনা দিয়ে একটা খেলার পরিবেশ সৃস্টি করতে পারি তাতে শিশুদের সামাজিক বিকাশ,আবেগিক বিকাশ ,ভাষাগত বিকাশ এর জন্য সহায়তা করবে।

 

২/ভাষাগত এবং সামাজিব বিকাশ;

আমাদের জানতে হবে খেলা কোনও অকারণ জিনিস না। Arkansas university একটা রিসার্চ দেখা যায় ১ বছর এর কম যে সব শিশুদের হাতে আমরা খেলনা বা খেলা উপযুগি একটা পরিবেশ উপহার দিচ্ছি,তাদের সাথে খেলা করছি। যখন তাদের ৩ বছর বয়স হয় তখন যে শিশুটা খেলাধুলার সুযোগ পায় নাই বা বাবা মা খেলতে দে নাই তাদের থাকে খেলাধুলা করা শিশুটির Eye-Q -Level অনেক বেশি। একজন রেনোয়ান সাইকোলজিস্ট তিনি খেলার উপর ৪৬টি গবেষণা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন খেলা শিশুর বুদ্ধিগত বিকাস ,ভাষাগত বিকাশ এবং সামাজিব বিকাশ এর দিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই শিশুর মানসিক বিকাশ এর জন্য খেলা অনেক গুরুত্বপূণ।

 

৩/সৃজনশীলতা বিকাশ;

খেলা আমাদের শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়।আমরা আমাদের শিশুদের যত বেশি খেলতে দিচ্ছি সেখান থেকে তাদের চিন্তা করার ক্ষমাতাটা বেশি হয়,সৃষ্ঠিশীলতা বিকাশ ঘটে। আমরা যদি একটু চিন্তা করি একটা শিশুকে যদি শুধু বই এর শিক্ষা প্রধান করি ,বই এর বাইরে কোনও কিছু চিন্তা করা যাবে না,সকালে পড়তে হবে বিকালে পড়তে হবে,এটা করা যাবে না,ওটা করা যাবে না। এই যে নিয়ম তান্ত্রিক শিক্ষাটা প্রধান করা হচ্ছে এটা সম্পূর্ণ ভুল একটা প্রয়োগ। এতে শিশুদের সৃজনশীলতায় বিঘ্ন ঘটে। আমরা যখন শিশুদের স্বাধীন ভাবে খেলতে দিবো তখন তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায় ,সে নিজে থেকে চিন্তা করার শক্তি পায়। তাই আমি বলবো খেলা কোনও মজা না,এটা একটা বিশাল শিক্ষা যা আমাদের শিশুদের সামাজিক,মানসিক,আবেগিক,সৃজনশীলতা সব কিছুর বিকাশ এর একটা প্রাথমিক ধাপ।

 

৪/মানসিক আবেগ নিয়ন্ত্রণ;

আমাদের শিশুরা যখন বড় হতে থাকে তখন আমরা লক্ষ করে থাকি যে তারা তাদের আবেগ এর বহিঃপ্রকাশ ভঙ্গিটা কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কারো সাথে কথা বলার সময় নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না,এই যে তাদের সমস্যা গুলু হয় এটা সাধরণ ভাবে আমাদের ধরা বাঁধা নিয়ম এর মধ্যে থাকার কারণে হয়। শিশুদেরকে যখন বিভিন্ন খেলায় জড়িয়ে দেয়া হয়,তাদের খেলতে দেয়া হয় গবেষণা বলে তখন তাদের মানসিক নিয়ন্ত্রণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে। সে নিজের মতো করে তার বাচন ভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

যে সব শিশুরা খেলাধুলা থেকে দূরে থাকে তাদের থেকে নিজেদের ধোর্যশীলতা অনেক বেশি থাকে যা আমাদের সামাজিক জীবন বেবস্তার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এটা খুব সহজে অনুধাবন করতে পারি,আমরা যখন খেলি তখন দুশ্চিন্তা দূর হয়,আমাদের শরীরের হ্যাপি হরমোন গুলো মুক্তি পায়। একটা শিশুর জন্য দুশ্চিন্তা দূর করাটা খুবই জরুরি কারণ একটা শিশু সব সময় ৪ দেয়ালে বন্দি থাকলে সেটা তার শারীরিক মানসিক উন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়। তাই আমাদের প্রয়োজন সপ্তাহে এক বা দুই দিন তাদের কে নিয়ে খুলে মাঠ বা খেলার মাঠ যেখানে খেলার সরঞ্জাম আছে সেখান থেকে গুরে আসতে পারি,তাতে শিশুদের হ্যাপি হরমোন গুলু বৃদ্ধি পায়। অথবা আমরা আমাদের বাড়িতে একটা ছোট খেলা উপযুগি জায়গা দিতে পারি যাতে করে তারা তাদের স্বাদীনতা পায় নিজেদের বন্দী মনে না করে।

 

সব সময় মনে রাখবেন একটা শিশু যেকোন খেলতে গিয়ে ব্যথা পায় ,একদিন দুইদিন পর দেখবেন সে নিজে নিজে তার সমস্যা সমাধান করতে পারছে,তার মধ্যে সমস্যা সমাধান করার মতো চিন্তা শক্তি উন্নতি হচ্ছে।একটা শিশু যেকোন খেলে তখন তার মাঝে যে শক্তিটা সঞ্চার হয় সেখান থেকেই সে হাঁটতে শিখে ,দৌড়াতে শিখে ,অন্য মানুষ এর আবেগ বুঝার ক্ষমতা বৃদ্ধী পায়।

 

শিশুদের খেলাধুলা নিয়ে যদি বলতে শুরু করি তাহলে শেষ করার মতো না,তাই আমি অবিভাবকদের বলবো খেলাধুলা কে কখনো ছোট করে দেখবেন না। এটা আপনার শিশুর শারীরিক মানসিক বিকাসে সহায়তা করে। তাই আমাদের অবিভাবকদের যার যতটুকু ক্ষমতা আছে আমরা আমাদের সদ্য মতো চেষ্টা করবো শিশুদের খেলাধুলা নিশ্চিত করার জন্য।

Check Also

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

Leave a Reply

Your email address will not be published.