কঠোর লকডাউনেও কারখানা সচল রাখতে চান মালিকরা

কঠোর লকডাউনেও কারখানা সচল রাখতে চান মালিকরা

সরকারের দেয়া প্রথম দফা এক সপ্তাহের লকডাউনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ ১১ই এপ্রিল। প্রথম দফা লকডাউনে চালু ছিল গণ-পরিবহন, দোকানপাট ও শপিংমল, বইমেলা, কলকারখানা এবং গার্মেন্টস কারখানা।

কিন্তু দুই দিন পর ১৪ এপ্রিল থেকে এবার সর্বাত্মক লকডাউন দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সরকারের পক্ষ থেকে ধারণা দেয়া হয়েছে, আসন্ন ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউন হবে আরো কঠোর। গণপরিবহনসহ শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখতে হবে। তবে কঠোর ওই লকডাউনে কারখানা সচল রাখতে চান শিল্প-মালিকরা।

গত বছরের ১৮ই মার্চ করোনার প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। মার্চের মধ্যভাগ থেকে কিছু রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজ থেকেই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরু হলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পরে শর্ত মেনে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা সচল রাখতে শুরু করেন কারখানা মালিকরা। অর্থনীতির গতি ফেরাতে প্রায় দুই মাস পর লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়।

এর মধ্যেই আবারও দেশে শুরু হয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত ৯ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। একইসঙ্গে আরো কঠোর লকডাউনের পূর্বাভাস দেয়া হয় সরকার থেকে। এই পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানার মালিকদের মধ্যে কারখানা সচল রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। মহামারি পরিস্থিতিতে কারখানা পরিচালনার পূর্বাভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখতে চাইছেন তারা। অনেকে নতুন প্রণোদনার দাবিও তুলতে শুরু করেছেন।

রফতানিমুখী শিল্প সংশ্লিষ্ট মালিকরা বলছেন, সরকার এখন কঠোর লকডাউনের কথা বলছে। যদিও কোনো বিধিনিষেধ বা প্রজ্ঞাপন দেয়া হয়নি এখনো। পোশাক খাতকে এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখার দাবি তাদের।

শিল্প-মালিকদের দাবি, পরিস্থিতি এখন জটিল। এখনই সবকিছু বন্ধ করে শ্রমিকদের ছেড়ে দেয়া হলে তারা নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়ে।

এ বিষয়ে পোশাক শিল্প-মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, ‘ক্রেতারা তাদের ক্রয়াদেশগুলো আমাদের পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলোতেও দেয়। আমাদের জানা মতে প্রতিযোগী দেশ কোনোটিই এখনো লকডাউনে যায়নি। সামনের দিনগুলো, বিশেষ করে ঈদের সময়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সরকারকে আবেদন করে রাখতে চাই। নীতিনির্ধারণী মহল আমাদের সমস্যাগুলো অনুধাবন করবে, সে আশাবাদই আমরা জানিয়ে রাখতে চাই।’

শিল্প-কারখানার ব্যবসার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে রফতানিমুখী শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলো এখন কেবল কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এখন সামনের দিনগুলোর ক্রয়াদেশ নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া গত আট-নয় মাসের রফতানি পরিসংখ্যান খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্রয়াদেশ দিতে ক্রেতারা এখনো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবেই বিবেচনা করছেন বাংলাদেশকে।’

এদিকে রোজার ঈদের দুই মাস পরই আসছে কোরবানির ঈদ। সব মিলিয়ে বছরের এ সময়টাতেই চাপে থাকে কারখানাগুলোতে। যেহেতু ক্রয়াদেশ আছে, কাঁচামালও চলে এসেছে, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন চালিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *