শিথিল লকডাউনে যেভাবে চলছে গণপরিবহন

শিথিল লকডাউনে যেভাবে চলছে গণপরিবহন

আগামী ২১ জুলাই বুধবার ঈদুল আজহা। আর এই ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে সরকার। অর্থাৎ ঈদে চলবে গণপরিবহন। এরই মাঝে সকল দুরপাল্লার গাড়ী চলাচল শুরু হয়েছে।

শিথিল লকডাউনে যেভাবে চলছে গণপরিবহন এ নিয়ে অনেকের মাঝেই রয়েছে কৌতুল। অর্ধেক যাত্রী আর অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে গতকাল বুধবার (১৪ জুলাই) মধ্যরাত থেকে চলতে শুরু করেছে সকল দুরপাল্লার গণপরিবহন এবং দুপুর থেকে চালু হয় নৌপরিবহন।

রাজধানীর উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিনালের বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীচাপও চোখে পড়ার মতো। ঈদের আগে বাড়তি চাপ এড়াতে ঢাকা ছাড়ছেন অনেকেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী বসানো হলেও পরিবহন কোম্পানির পক্ষ থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার না দেওয়ার অভিযোগ করেন অনেকেই। সামনের দিনগুলোতে আরও যাত্রী বাড়াবে বলে আশাবাদ পরিবহন কোম্পানিগুলোর।

লকডাউনের গণ পরিবহন

যদিও ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি করোনা সংক্রমনব্যধি নিয়ন্ত্রনে বাসের অর্ধেক সিট খালি রেখে গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু যাত্রাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পড়া, ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা মনিটরের কী ব্যবস্থা? এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েতুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, টার্মিনাল থেকে যাত্রী তুলে দেওয়ার পর যদি মাঝপথে যাত্রী উঠে বা অনিয়ম করে, তাহলে হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন পয়েন্ট আছে তারা দেখবে। আমাদের নজরদারি আমরা টার্মিনাল থেকে করব। আর দু-একটা পয়েন্টে আমরা নজরদারি করব। তার বাইরে করা সম্ভব না।

এদিকে বিধিনিষেধ শিথিল করায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু করে রেলওয়ে। ৩৮টি আন্তঃনগর এবং ১৯টি মেইল ও কমিউটার ট্রেন দিয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হয় ট্রেন যাত্রা।অন্যদিকে, ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে প্রতি বছর ঈদের সময়ে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকে।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, লঞ্চে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি ঠেকাতে টার্মিনালের পন্টুন ও গ্যাঙওয়ের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।নৌপরিবহন মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যাত্রী এবং লঞ্চ মালিক উভয়ের জরিমানা করা হবে। তবে ঈদের সময় ঘরে ফেরা মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চে চলাচল অসম্ভব একটি ব্যাপার বলে মনে করেন ঢাকা-বরিশাল ও মাদারীপুর রুটে চলাচলকারী এমভি পারাবত লঞ্চের মালিক শহীদ ভুঁইয়া।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি যাত্রী চলে তাহলে মানা হবে, না হলে তাদের পক্ষে সেটা মানানো সম্ভব না। ঈদের সময়, লোকে স্বাস্থ্যবিধি মানবে না, আমরাও তাদের মানাতে পারব না। ঈদের সময় না হলে একটা কথা ছিল।ঈদকে সামনে রেখে ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

লকডাউনে যেভাবে চলছে গণপরিবহন

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে। জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ সময়ে জনসাধারণকে সতর্ক থাকা, মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।এই আট দিনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন চলবে। একই সঙ্গে সীমিত পরিসরে খুলবে দোকানপাট ও শপিংমল।

আগামী বুধবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।এদিকে শপিংমল খুলে দেওয়া হলেও খুশি নন ব্যবসায়ীরা। ঈদের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে শপিং খুলে দিলেও এটি তাদের জন্য খুব বেশি মুনাফা বয়ে আনবে বলে মনে করছেন না তারা।করোনাভাইরাস সংক্রমণের দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দেখছে দেশ।

মহামারির লাগাম টানতে না পেরে গত ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন দেয় সরকার।প্রথমে সাত দিনের লকডাউন দিলেও সংক্রমণ বাড়তে থাকায় লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে আরও সাত দিন বাড়িয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত করা হয়, যা শেষ হয় বুধবার (১৪ জুলাই) মধ্যরাতে।

ইদের পরে আবার লকডাউন

তবে আগামী ২১ জুলাই বুধবার ঈদুল আযহা শেষে আবার শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হবে, চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত।

এই সময়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব মোতায়েন থাকবে। বন্ধ থাকবে গণপরিবহন, অফিস, শপিংমল, কলকারখানা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশে এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৯ শতাংশের বেশি। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে গণপরিবহনসহ দোকানপাট সব খুলে দেওয়ার ফলে সংক্রমণ পরিস্থিতির ঊর্ধ্বগতি আটকানো কঠিন হয় পড়বে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আপডেট নিউজ পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন। আরও পড়ুন ;

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *