সুন্নত সম্মত মুনাজাত ও সুন্নাতের আদব সমূহ: 2021
হযরত ফাজালা ইবনে উবায়দ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন বসা ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামায পড়ে দু‘আ করতে লাগল। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো। আমার প্রতি দয়া করো। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, হে মুসল্লী! তুমি তাড়াহুড়া করেছ। তুমি যখন নামায পড়ে বসবে তখন প্রথমে আল্লাহ তা‘আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করবে অতঃপর আমার প্রতি দুরূদ পড়বে তারপর দু‘আ করবে।

সুন্নত সম্মত মুনাজাত ও সুন্নাতের আদব সমূহ: 2021

মুনাজাতের সুন্নাত ও আদবসমূহ;

১। আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরূদের মাধ্যমে দু‘আ শুরু করা। যেমন: এভাবে দু‘আ শুরু করা-

(আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামিন। ওয়াসছলাতু ওয়াসসালামু ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আলিহি ওয়াছহবিহি আজমা‘ইন।)

অর্থ: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য এবং রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাথীবর্গের উপর।

এ হলো হামদ (প্রশংসা) ও সালাতের (দুরূদের) সংক্ষিপ্ত বাক্য। আরো বিস্তারিত ও অনেক ফজীলতপূর্ণ হামদ ও সালাত রয়েছে। যখন সময় বেশি থাকে তখন সেগুলো পড়া উত্তম হবে।

হযরত ফাজালা ইবনে উবায়দ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন বসা ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামায পড়ে দু‘আ করতে লাগল। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো। আমার প্রতি দয়া করো। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, হে মুসল্লী! তুমি তাড়াহুড়া করেছ। তুমি যখন নামায পড়ে বসবে তখন প্রথমে আল্লাহ তা‘আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করবে অতঃপর আমার প্রতি দুরূদ পড়বে তারপর দু‘আ করবে।

বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আরেকজন লোক এসে নামায পড়ল। আল্লাহর প্রশংসা করল এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দুরূদ পড়ল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, হে মুসল্লী! তুমি দু‘আ করো, তোমার দু‘আ কবুল করা হবে। (তিরমিযী, হাদীস:৩৪৭৬)

অন্য হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:- অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দুরূদ না পড়া পর্যন্ত সকল দু‘আ আটকে থাকে। (ত্ববারানী আউসাত, হাদীস: ৪৩৯৯)

এ ছাড়া আসমায়ে হুসনা ও ইসমে আ‘যমের মাধ্যমে দু‘আ করলেও দু‘আ কবুল হয়

২। উযুর সাথে কিবলামূখী হয়ে দু‘আ করা। (মুসলিম, হাদীস: ১৭৬৩)

৩। উভয় হাত সিনা বরাবর সামনে রাখা। হাতের তালু আসমানের দিকে প্রশস্ত করে রাখা। (আবু দাউদ, হাদীস: ১৩১৮,১৪৮৮)

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয় তোমাদের রব লজ্জাশীল, মহান দাতা। তাঁর বান্দা যখন তাঁর কাছে দু’হাত উঠায় (দু‘আ করার জন্য) তখন তিনি তা শূন্য ফেরৎ দিতে লজ্জাবোধ করেন। (তিরমিযী, হাদীস: ৩২৫০)

৪। হাতের আঙ্গুলসমূহের মাঝে স্বাভাবিক ফাঁকা রাখা।

৫। দু‘হাতের মাঝে সামান্য ফাঁকা রাখা।

৬। মন দিয়ে কাকুতি মিনতি করে দু‘আ করা।

৭। প্রার্থিত বিষয়টি আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে দৃঢ়তার সাথে বারবার চাওয়া।

৮। ইখলাসের সাথে নিঃশব্দে দু‘আ করা মুস্তাহাব। তবে দু‘আ সম্মিলিত হলে এবং কারো নামাযে বা ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হলে স্বশব্দে করাও জায়েয।

৯। দু‘আর শেষে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরূদ পাঠ করে ‘আমীন’ বলা। যেমন: সুবহানা রব্বিকা রব্বিল ‘ইয্যাতি ‘আম্মা ইয়াছিফুন, ওয়া সালামুন ‘আলাল মুরসালীন, ওয়ালহামদুলিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন। আল্লহুম্মা আমীন। (সূরা ছফফাত,আয়াত:১৮০-১৮২)

অর্থ: তারা যা দোষারোপ করে তা হতে আপনার প্রতিপালক মহা পবিত্র, যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী। শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের প্রতি এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য। হে আল্লাহ! তুমি কবুল করো।

১০। মুনাজাতের পর উভয় হাত দ্বারা মুখমন্ডল মুছে নেওয়া।

আমরা আল্লাহর কাছে যা কিছু চাব নামাজের মাধ্যমে মুনাজাতে চাইবো.

বিশেষ কয়েকটি সুরার গুরুত্ব ও উপকারিতা:

বিশেষ কয়েকটি সুরার গুরুত্ব ও উপকারিতা

রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিনটি নিজের চোখে দেখতে চায়, সে যেন সুরা তাকউয়ির, সুরা ইনফিত্বার ও সুরা ইনশিক্বাক্ব পড়ে নেয়।” [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৫৭৫৫; তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৩৩৩; হাদিসটি সহিহ]

এই সুরাগুলো অন্তত একবার অর্থসহ পড়লে হাদিসটির যথার্থতা স্পষ্ট হয়ে যাবে। খুব বেশি বড় নয়, প্রতিটি সুরাই আকারে ছোটো। এগুলো যথাক্রমে ৮১, ৮২ ও ৮৪ নং সুরা।

আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছেন!’ তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বললেন, ‘‘সুরা হুদ, ওয়াক্বি‘আহ্, মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসাআলুন (নাবা) ও ইযাস-শামসু কুউয়িরাত (তাকউয়ির) আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে।’’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ৩২৯৭; হাদিসটি সহিহ]

হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম মুনাউয়ি (রাহ.) বলেন, কিয়ামতের ভয় ও আজাবের কথা বর্ণিত হয়েছে এসব সুরায়। তাই, এসবের ব্যাপারে চিন্তা-ফিকিরই নবিজিকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে। [মুনাউয়ি, ফায়দ্বুল ক্বাদির: ৪/২২১].সুরাগুলোর ক্রম জেনে নিন, সহজে পেতে পারেন: হুদ (১১ নং), ওয়াক্বি‘আহ্ (৫৬ নং), মুরসালাত (৭৭ নং), নাবা (৭৮ নং) এবং তাকউয়ির (৮১ নং)।

যারা নামাজে তিলাওয়াত করে মজা পেতে চান, তারা এই পোস্টে উল্লেখিত সুরাগুলো অর্থসহ মুখস্থ করে নিতে পারেন। আকারে খুব বেশি বড় নয়। আল্লাহর উপর ভরসা করে চেষ্টা করুন। অর্থ বুঝে এসব সুরা পাঠ করে নামাজ আদায় করার অনুভূতিটা নিশ্চয়ই অন্যরকম হবে, ইনশাআল্লাহ্।.মহিমান্বিত কুরআন (১৪ তম পর্ব)পূর্বের সকল পর্বের লিংক কমেন্টে দেওয়া হলো। না পড়ে থাকলে মিস করবেন না।

আরো পড়ুন: ফরজ নামাজের পরে যে তাসবিহ ও দো’য়া গুলো পড়তে হয়.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *