ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম
ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

অল্প টাকায় অনেক লাভজনক এবং সম্মানজনক একটি পেশা ফার্মেসি ব্যবসা। আমরা যারা  ফার্মেসি ব্যবসা করতে চাচ্ছি বা অলরেডি ফার্মেসি ব্যবসা করছি তাদের কিছু কাজ কমপ্লিট করে নিতে হয়। যেমন:- ড্রাগ লাইসেন্স করা, ফার্মাসিস্ট কোর্স কমপ্লিট করা, ফান্ডিং ম্যানেজ করা ইত্যাদি। অনেকগুলো কাজ রয়েছে যেগুলো কমপ্লিট করার পর আমরা ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করতে পারি। আজকে আপনাদেরকে জানাবো ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম সম্পর্কে। ফার্মাসিস্ট কোর্স কিভাবে করবেন, ফার্মাসিস্ট কোর্স কোথায় করা যায়, ফার্মাসিস্ট কোর্স করার যোগ্যতা, ফার্মাসিস্ট কোর্স ফি কত ইত্যাদি সম্পর্কে আজকের ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম বিষয়ক পোষ্টে আলোচনা করা হবে।

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়মসমূহঃ

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম-2022
ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

সি ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট কোর্স সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

>ফার্মাসিস্ট কোর্স কয় ধরনের

>ফার্মাসিস্ট কোর্স কাদের করা উচিত

>ফার্মাসিস্ট কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা

>ফার্মাসিস্ট কোর্স কোথায় করা যায়

>ফার্মাসিস্ট কোর্সে কিভাবে ভর্তি হবেন

>ফার্মাসিস্ট কোর্স ফি কত

এই সকল বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের আজকের ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম পোস্টে আলোচনা করা হবে।

ফার্মাসিস্ট কোর্স কয় ধরনের

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম-2022
ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

ফার্মাসিস্ট কোর্স তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা:-

●এ ক্যাটাগরি

●বি ক্যাটাগরি

●সি ক্যাটাগরি

প্রশ্ন আসতে পারে, আপনি কোন ক্যাটাগরি কোর্স করবেন? আপনি যদি ফার্মাসিস্ট কোর্স কমপ্লিট করে শুধুমাত্র ফার্মেসির ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনার জন্য সি ক্যাটাগরি কোর্স হলেই চলবে। সি ক্যাটাগরি কোর্সের সার্টিফিকেট বা লাইসেন্স থাকলেই আপনি ঝাই-ঝামেলা ছাড়াই ফার্মেসি ব্যবসা করতে পারবেন।

সি ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

সি ক্যাটাগরি ফার্মেসি কোর্স ও অন্যান্য ক্যাটাগরি কোর্সের সার্কুলার প্রকাশিত হয় “বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল” থেকে। আপনি যদি ফার্মাসিস্ট কোর্স করতে চান তাহলে বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (http://www.pcb.gov.bd) নজর রাখবেন; কখন সার্কুলার প্রকাশিত হয়।

 সি ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট কোর্সের মেয়াদকাল ৩ মাস। আপনি জানুয়ারি মাসে ভর্তি হলে, মার্চ মাসের মধ্যে আপনার কোর্স সম্পন্ন হয়ে যাবে। এরপর বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল আরেকটি নতুন ব্যাচ শুরু করবে এবং প্রতি ব্যাচে ১০০জন করে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে কোর্স বন্ধের নোটিশ না আশা পর্যন্ত এভাবেই ৩ মাস পর পর একটি ব্যাচ বের হবে এবং একটি ব্যাচ কোর্স শুরু করবে। এদিক থেকে চিন্তা মুক্ত থাকতে পারেন, আপনি আপনার সুবিধা মতো যেকোনো ব্যাচের সাথে ফার্মাসিস্ট কোর্সে ভর্তি হতে পারেন।

ফার্মাসিস্ট ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম এবং ভর্তির যোগ্যতা (সি ক্যাটাগরি)

  • আবেদনকারীকে এসএসসি/ সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে;
  • আবেদনকারীর বয়সসীমা ১৭-৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে;
  • ড্রাগ লাইসেন্স আছে এমন ফার্মেসির মালিক কিংবা ওই ফার্মেসিতে কাজ করে এমন কোন ব্যক্তি।

এ ক্যাটাগরি এবং বি ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট কোর্স করার জন্য অবশ্যই আপনাকে সাইন্স থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করতে হবে। তারপর চার বছর মেয়াদী একটি ডিপ্লোমা কোর্স করার মাধ্যমে এ ক্যাটাগরি/বি ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট হতে পারবেন। অন্যদিকে সি ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট কোর্স তিন মাস মেয়াদি হওয়ায় আপনি যেকোনো গ্রুপ থেকে পাশ করেন না কেন; আপনি এই করতে পারবেন। অর্থাৎ সি ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট কোর্স করার জন্য কোন গ্রুপ লাগবে না। ১৭-৫০ বছর বয়সের যে কেউ সি ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট কোর্স করতে পারবে।

আবেদনপত্রের সঙ্গে নিচের কাগজপত্রগুলো জমা দিতে হবে

  1. ভর্তির ফর্মের সঙ্গে এস.এস.সি/সমমানের সার্টিফিকেটের ফটোকপি। 
  2. যেই ফার্মেসিতে কর্মরত ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্সের ফটোকপি বা 
  3. মনােনীত ব্যক্তির নিজের ফার্মেসীর ভাউচারে মালিক কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। 
  4. জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
  5. সদ্যতােলা ০২ (দুই) কপি পাসপাের্ট সাইজের ল্যাবে প্রিন্ট করা ছবি। 
  6. কোর্সের নির্ধারিত ফি (অফেরৎ যােগ্য) পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে (ব্যাংকের মাধ্যমে দিতে পারবেন)।
ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম-2022
ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

ফার্মাসিস্ট কোর্স কোথায় করা যায়

সবথেকে বেশি প্রশ্ন এসে থাকে কোথায় ভর্তি হবেন, কিভাবে ভর্তি হবেন? আপনার উপজেলা বা জেলায় বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট এন্ড কেমিস্ট্রি কার্যালয়ে ভর্তি হবে। ভর্তির বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল দিলেও ভর্তি নিয়ে থাকে বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট এন্ড কেমিস্ট কার্যালয়। আপনার উপজেলার বা জেলার বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট এন্ড কেমিস্ট্রি কার্যালয়ে যোগাযোগ করবেন;  সেখানে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আপনাকে জানাতে পারবে এখন কোন ব্যাচ চলছে এবং কতদিন চলবে। তারপর আপনি তাদের সাথে যোগাযোগ করে ফার্মাসিস্ট কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন।

এছাড়াও আপনার এলাকার বা আপনার পরিচিত কোন ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলতে পারেন। যে সি ক্যাটাগরি ফার্মেসি কোর্স করার পর এখন ফার্মেসির ব্যবসা করছে। তার থেকে আপনি বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট এন্ড কেমিস্ট কার্যালয়ের ঠিকানা পেয়ে যাবেন। ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম জানা থাকলেও ভর্তি হওয়ার পূর্বে অবশ্যই কোন অভিজ্ঞ ফার্মাসিস্টের সাথে আলোচনা করে নিবেন। তাহলে আরও বেশি কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন।

ভর্তি হওয়ার সময় আপনাকে অবশ্যই সাথে করে ড্রাগ লাইসেন্সের একটি ফটোকপি নিতে হবে।ড্রাগ লাইসেন্স আছে এমন ফার্মেসির মালিক কিংবা ওই ফার্মেসিতে কাজ করে এমন কোন ব্যক্তি অর্থাৎ আপনি কোন ফার্মেসি দোকানের অধীনে এই কোর্সটি করছেন অথবা ঐ ফার্মাসিস্ট আপনাকে সুপারিশ করছে এই কোর্সটি করার জন্য। 

আপনি কি জানেন, আপনার জেলায় ফার্মাসিস্ট কোর্স কোথায় করা যায়? দেশের প্রত্যেকটি জেলায় বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট এন্ড কেমিস্ট্রি কার্যালয় রয়েছে। এমনকি আপনার উপজেলায়ও বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট এন্ড কেমিস্ট্রি কার্যালয় থাকতে পারে। বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রত্যেকটি জেলার বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট এন্ড কেমিস্ট্রি কার্যালয়ের লোকেশন দেওয়া রয়েছে। ওয়েবসাইটে একটু ঘাটাঘাটি করলে পেয়ে যাবেন অথবা আপনার জেলায় ফার্মাসিস্ট কোর্স কোথায় করা যায় এই বিষয়ে আমাদের একটি পোষ্ট রয়েছে। চাইলে দেখে নিতে পারেন।

ফার্মাসিস্ট কোর্স ফি কত?

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করবো কিন্তু কোর্সের ফি জানাবো না সেটা কি হয়। বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট এন্ড কেমিস্ট্রি কার্যালয় হতে নির্ধারিত ফার্মাসিস্ট  কোর্স ফি  ২,৩৫০/- (দুই হাজার তিনশত পঞ্চাশ) টাকা, পরিক্ষা ফি ১,৫০০/- (এক হাজার পাঁচশত) টাকা এবং আবেদন ফি ১০/- (দশ) টাকা। সি ক্যাটাগরি ফার্মাসিস্ট কোর্স ফি সর্বমোট ৩,৮৬০/- (তিন হাজার আটশত ষাট) টাকা বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল এর অনুকূলে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। কোন অবস্থাতেই কোর্স ফি নগদ গ্রহন করা যাবে না এবং এই নির্ধারিত ফি থেকে অতিরিক্ত ফি গ্রহন করা যাবে না।

কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন ফর্ম কিনতে হবে অফিস থেকে। ফর্মের জন্য নির্ধারিত ফি ১০/- (দশ) টাকা। কোন কোন অফিসে ৫০ টাকাও নিয়ে থাকে। এটা তেমন বেশি পার্থক্য নয়। তবে কোর্সের বাকি ফি একই থাকবে। আপনার থেকে কোর্স ফি ২,৩৫০/- (দুই হাজার তিনশত পঞ্চাশ) টাকা, পরিক্ষা ফি ১,৫০০/- (এক হাজার পাঁচশত) টাকার বেশি দাবি করলে একটু খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবেন কোর্স ফি বাড়ানো হয়েছে কিনা। সি ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট কোর্স ফি ব্যাংকের মাধ্যমে পে-অর্ডার করতে হবে। ব্যাংক থেকে আপনাকে একটি স্লিপ দিবে। টাকা জমা দেওয়ার স্লিপটি সহ আপনার অন্যান্য কাগজগুলো আবেদন ফর্মের সাথে সংযুক্ত করে অফিসে জমা দিবেন। তারা আপনাকে ভর্তি করে নিবে।

সি ক্যাটাগরি ফার্মাসিস্ট কোর্সে কয়টি বই

৩ মাস মেয়াদী এই সি ক্যাটাগরি ফার্মাসিস্ট কোর্সে শুধুমাত্র ১টি বই পড়তে হয়। সি ক্যাটাগরি ফার্মাসিস্ট কোর্সের বইয়ের নাম হচ্ছে “সহজ ঔষুধবিজ্ঞান”। বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল “সহজ ঔষুধবিজ্ঞান” বইটি প্রকাশ করে থাকে। কোর্সে ভর্তি হলে সরাসরি অফিস থেকেই আপনি বইটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম-2022
ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

আমাদের আজকের ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম পোষ্টটি যদি আপনার উপকারে এসে থাকে তাহলে আপনার বন্ধুর সাথে পোষ্টটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.