পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব এর সময় করণীয়ঃ

পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব এর সময় করণীয়ঃ

আসসালামু আলাইকুম
একজন নারীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড।
পিরিয়ড আল্লাহর পক্ষ থেকে নারীদের জীবনে বিশেষ এক উপহার।পিরিয়ড না হলে নারীরা স্বর্ণ ব্যাবহার করতে পারতেন না। কারণ আমরা যখন স্বর্ণ ব্যাবহার করি, তখন স্বর্ণের দূষিত অতি ক্ষুদ্র কণা শরীর এর লোম কূপের মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায়। এবং পিরিয়ড এর সময় দূষিত ক্ষুদ্র স্বর্ণ কণা গুলো পেরিয়ডের রক্তের সাথে বের হয়ে আসে। এই কারণে আল্লাহ্পাক নারীদের জন্য স্বর্ণ ব্যাবহার হালাল করলেও পুরুষের জন্য হারাম করা হয়েছে।

পিরিয়ড

পিরিয়ড বেবস্তা এমন এক পক্রিয়া,যার মাধ্যমে একজন নারী গর্ব ধারণে উপযুক্ত হয়। পিরিয়ড এর মদ্যে দিয়ে একজন মা এর জন্ম হয়। পিরিয়ড এর সময়টা প্রত্যেক মা বোনের জন্যই অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়। প্রত্যেক নারীকেই এই সময়টা শারীরিক ও মানসিক কিছু সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। অনেক ধরণের সমস্যা দেখা দেয়।

সমস্যা

তলপেটে ব্যথা ,খিটখিটে মেজাজ ,মাথা ঘুরানো ,এসিডিটি ,মুখে অরুচি,বমি বমি ভাব,অস্বস্তিবোধ ইত্যাদি।

নিজের সুস্বাস্থ রক্ষায় প্রত্যেক মা বোনের জেনে রাখা উচিত পিরিয়ড এর সময় যে কাজ গুলো করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত:-

পিরিয়ড এর সময় যে কাজ করবেন না

১/পিরিয়ড চলাকালীন সময় ঠান্ডা পানি,কোমল পানিয় এবং নারকেল খাবেন না। ডাবের পানি পান করতে পারেন এটা অনেক উপকারী।

২/পিরিয়ড এর সময় মাথায় শ্যাম্পু ব্যাবহার থাকে বিরত থাকুন,কারণ এই সময়ে চুলের গোড়া আলগা হয়,ফলে ফলে লোমকূপ উন্মুক্ত হয়ে যায়। পিরিয়ড এর সময় শ্যাম্পু ব্যাবহার অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দীর্গস্থায়ী মাথাব্যাথার কারণ হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে ,পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে ঠান্ডা পানি পান করার কারণে পিরিয়ড এর রক্ত বের না হয়ে জরায়ু প্রাচীরে জমাট বাঁধতে পারে। যা পরবর্তী ৫ থেকে ১০ বছর এর মদ্যে জরায়ু টিউমার বা ক্যান্সারের আকার ধারণ করতে পারে।তাই সম্ভব হলে কুসুম গরম পানি পান করুন।

৩/শসা খাবেন না। কারণ শসার মদ্যে থাকা রস পিরিয়ড এর রক্তকে জরায়ু প্রাচীরে আটকে দিতে পারে।যার ফলে নারীর বন্ধ্যা হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।পিরিয়ড এর সময় শসা খেলে শরীরে ‘ইস্ট্রোজেন’এর মাত্রা অনেক বেশি পরিমানে কমে যায়। ইস্ট্রোজেন এর মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে শরীরে ব্যাথার অনুভূতি অনেক তীব্রভাবে বুঝা যায়।

এক কথায় বলা যেতে পারে ,শরীর অনেক বেশি অনুভুতিশীলপূর্ণ হয়ে উঠে। যার ফলে পিরিয়ড এর সময় ত্বক সেভ করা:অর্থাৎ বোগলের চুল বা গুপনাঙ্গ পরিষ্কার থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪/পিরিয়ড এর সময় লক্ষ্য রাখবেন ,যেন শরীরে শক্ত কিছুর আঘাত না লাগে,বিশেষত পেটের মদ্যে। পিরিয়ড এর সময় জরায়ু খুব নাজুক অবস্থায় থাকে ফলে অল্প আঘাত এর কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যার ফলে পরবর্তী সময়ে জরায়ু ক্যান্সার ,জরায়ুতে ঘাঁ কিংবা বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি থাকে।

৫/নিশ্চই সকল মা বোন বুজতে পারেন ,পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে মোড খুব বেশি মাত্রায় অস্থিতিশীল অবস্থায় থাকে।যার মূল কারণ,পিরিয়ড এর সময় শরীর এর হরমোনের তারতম্য দেখা দেয়।
হরমোনের তারতম্য দেখা দেয়ার ফলে শরীরে অসামাঞ্জস্যতা দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনও অনেক বেশি বিক্ষিপ্ত থাকে এবং আবেগভরাক্রান্ত হয়ে থাকে।

৬/এত দিন ধরে আমরা জেনে এসেছি,পিরিয়ড এর সময় খুব বেশি কাজ করতে হয় না। অথবা প্রত্যহ ব্যায়াম থেকে বিরক্ত থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমান সময় গবেষণা বলছে একেবারেই ভিন্ন কথা।

ওমেন্স হেলথ এর মতে ,
পিরিয়ড এর সময় শারীরিক কার্যক্রম বাড়িয়ে দেয়ার ফলে ,পেটব্যথা মানসিক দুশ্চিন্তা অথবা মনের বিক্ষিপ্ত ভাব কমে যায় অনেকখানি।

৭/পিরিয়ড এর সময় যদিও শরীরে ক্যালসিয়াম এর প্রয়োজন রয়েছে,তবুও এই সময় দুধ এবং দুদ্ধজাতীয় খাবার যেমন:পনির কিংবা দই খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
কারণ এই সব খাদ্যে একটি এসিড রয়েছে।যার ফলে পেটের নিচের অংশে তথা তলপেটে অতিরিক্ত ব্যথা সৃস্টি করার জন্য দায়ী হয়ে থাকে।

৮/অনেকেই অলসতার জন্য অথবা অজ্ঞতার জন্য একই স্যানেটারি ন্যাপকিনে সারাদিন দরে ব্যাবহার করেন। যা একজন নারীর জন্য খুবই ক্ষতিকর।সব ধরণের স্যানেটারি ন্যাপকিনে লিখা থাকে ৮ ঘন্টা পর পর পরিবর্তন করার জন্য। তবে নিজের সুস্বাস্থের কথা মাথায় রেখে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পর পর স্যানেটারি ন্যাপকিন পরিবর্তন জরুরি। অন্যতায় খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে থাকে এবং খুব বাঁজে দূর্গন্ধের সৃস্টি হতে পারে।

 

৯/ডাঃ জুলিয়া এ.হোয়াইট জানান,
পিরিয়ড এর সময় ওই সব ধরণের খাবার থেকে বিরত থাকা উচিত যে সকল খাবারে অতিরিক্ত লবন রয়েছে।যেমনঃ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।,চিপস ,চানাচুর ইত্যাদি।
লবনে থাকা সোডিয়াম পিরিয়ড এর সময়ে রক্ত প্রবাহের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শুদু তাই নয় ,পেটে ব্যথা এবং পানি আসার মতো সমস্যা গুলোও বেড়ে যায় অনেকখানি।

১০/আমরা অনেকেই একটা ভুল ধারণা করি.যেহেতু মাসিকের সময় শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে যায় সেহেতু এই সময়ে অনেক বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেতে হবে। একই সঙ্গে এই সময়ে বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেলে সেটা ওজন বাড়াবে না। এই দুইটি ধারণা একেবারেই ভুল।
সঠিক ব্যাপার হলো ,মাসিক এর সময় সাধারণ খাবার এবং স্বাস্থকর খাবার খাওয়া উচিত।এটি প্রতি টি নারীর জন্য প্রয়োজন।

পিরিয়ড এর সময় দুইটি কাজ ভুল করেও কখনো করবেন না,

১/সহবাস!পিরিয়ড এর সময় ভুল করেও সহবাস করবেন না। স্বামী জোর করলেও করবেন না। সম্ভব হলে ক্ষতিকর দিক গুলো বুজানোর চেষ্টা করবেন।(পবিত্র কুরআনেও এর উল্লেখ রয়েছে)
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এর মতেও পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে সহবাস করলে ইনফেক্শন হতে পারে কারণ তখন জরায়ু ও যৌনির অম্লভাব থাকে না। তাই এটি খুব সহজে রোগ জীবাণু ধারা আক্রান্ত হতে পারে।
এতে করে নারী দেহে বিভিন্ন ধরণের রোগ বেধি হতে পারে এবং পুরুষের বিশেষ অঙ্গে রব ব্যাধি ও ইনফেক্শন হতে পারে।
তাই পিরিয়ড চলাকালীন সময় সহবাস থেকে বিরত থাকুন।

২/পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে কুরআন তিলাওয়াত বা কুরআন স্পর্শ করবেন না। তবে দুই অবস্থায় কোরানের আয়াত পাট করা যাতে পারে। কোনও বিশেষ কাজ শুরুর আগে বিসমিল্লাহ পূর্ণ পাঠ করতে পারবে যদিও তা কোরানের আয়াত।
আবার দোয়াকরার জন্য বা কারো প্রশংসা করার জন্য কোরানের ছোট্ট কোনও বাক্যাংশ পাঠ করা যাবে।
অর্থাৎ শুধু জিকির উদ্দেশ্য হলে অথবা অনিচ্ছায় মুখ থেকে বের হলে তা হারাম হবে না।
এছাড়াও পবিত্র কোরানের দোয়ার আয়াত ও দোয়ার ছোট সূরা যেমন সূরা ইখলাস ,সূরা ফাতিহা এবং আয়াতুল কুরসী ইত্যাদি পড়া যায়েজ আছে। তবে তা উচ্চারণ না করে মনে মনে পড়াই উত্তম।

Check Also

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

ফার্মাসিস্ট কোর্স করার নিয়ম

Leave a Reply

Your email address will not be published.