চুল পড়া বন্ধ ও চুল ঘন করার ৯টি সেরা উপায় [ Effective Tips- 2021]

চুল পড়া বন্ধ ও চুল ঘন করার ৯টি সেরা উপায় [ Effective Tips- 2021]

প্রিয় পাঠক, এই ব্লগ পোস্টটির মাধ্যমে আজকে আপনি পড়তে ও জানতে যাচ্ছেন চুল পড়া বন্ধ ও চুল ঘন করার ৯টি কার্যকরী উপায়। তো চলুন শুরু করা যাক।

চুল ঘন ও লম্বা করার ৯টি কার্যকরী উপায়

  1. গাজরের রস
  2. আমলকির রস
  3. আঙ্গুরের রস
  4. আদার রস
  5. শসার রস
  6. ডিম
  7. মেথি
  8.  মেহেদি পাতা ও
  9. ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা

১। গাজরের রস

গাজর হচ্ছে একধরনের সবজি জাতীয় খাবার। গাজরে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ , মিনারেল, বায়োটিন ও পটাসিয়াম যা মানুষের জন্য খুবই উপকারী। চুল ঘন ও লম্বা করতে গাজরের রস অনেক বেশি কার্যকরী।

আপনি চাইলে শুধু গাজর রস না খেয়ে এর সাথে আরও কিছু উপাদান যোগ করতে পারেন। গাজর, টমেটো, চেরী, আপলের টুকরা দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন এক গ্লাস গাজরের রস। প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের রস আপনার দেহে বিটা ক্যরটিনের চাহিদা পূরণ করার সাথে সাথে চুল ঘন ও লম্বা করে তোলে।

বিটা ক্যারোটিন হল পিঙ্গল বর্নের একটি জৈব পদার্থ যা ছত্রাক গাছপালা, ও ফলে পাওয়া যায়। এটি ক্যারোটিন গ্রুপের একটি সদস্য, যা টারপিনয়েডস এবং আটটি আইসোপ্রিন ইউনিট থেকে জৈব-রাসায়নিকভাবে সংশ্লেষিত হয় তাই এতে ৪০ টি কার্বন রয়েছে ।

A76lQpP

২। আমলকির রস

চুলের গোড়া মজবুত করে চুলকে ঘন করে তুলতে আমলকির গুণ সম্পর্কে সবার জানা। এই আমলকি থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

প্রতিদিনকার খাদ্য তালিকায় আমলকির রস রাখুন। অথবা আমলকির রস চুলের গোড়ায় নিয়মিত লাগাতে পারেন। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে চুলকে সিল্কি করে তোলে।

5pmnQKn

৩। আঙ্গুরের রস

আঙ্গুরের রসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি। যা রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে রক্তে অক্সিজেন চলাচল বজায় রাখে। মাথার ত্বকের অক্সিজেন সরবারহ করে চুল পড়া রোধ করে থাকে।

৪। আদার রস

বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে আদার রসের জুড়ি নাই। যৌনতা বৃদ্ধিতে আদার খাওয়ার প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞান জোর দিয়ে থাকে এমনকি চুলের গোড়া মজবুত করতে আদার রস অনেক বেশি কার্যকরী। আপনি চাইলে আদার রস চুলের গোড়ায় ব্যবহার করতে পারেন। এটি মাথার ত্বকের কোষে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে থাকে। এমনকি এটি আপনার চুলকে মসৃণ ও চিকচিকে করে তুলবে।

৫। শসার রস

শসাতে রয়েছে স্যালিক এবং মিনারেল যা দেহের প্রতিটি কোষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। মাথার ত্বকের রক্ত চলাচল সচল রাখে এবং হিমোগ্লোবিন আপনার চুলের প্রতিটি কোষে প্রবাহিত হয়। শসার সাথে গাজর, আপেল বা টমেটো বা বিট বা লেবু রস যোগ করে তৈরি করে নিতে পারনে শসার রস। আবার আপনি চাইলে শুধু শসার রসও খেতে পারেন।

৬। ডিম

আমরা জানি যে, ডিম একধরনের পুস্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার যা ছোট-বড় সব শ্রেনীর লোকেরাই খেয়ে থাকি। ডিমে রয়েছে ভিটামিন ডি, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, আয়রনসহ আরও অনেক পুষ্টি উপাদান । তাই চুল পড়া , চুল লম্বা করা , চুল ঘন করা সব উদ্দেশ্য পূরনে এই ডিম ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এবার আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ডিম কি খাব ? নাকি মাথার চুলে ব্যবহার করব ? আর তা কিভাবে মাথায় ব্যবহার করব ?

জি। আপনি ডিম খাওয়ার পাশাপাশি মাথায়ও ব্যবহার করতে পারবেন।

খাবার হিসেবে যেসব খাবার চুলের জন্য সহায়তা করবে তা হলো; মাছ, ডিম, দুধ, দই-ছানা, বাঁধাকপি, পালং ইত্যাদি সবুজ শাকসবজি চুলের কেরাটিন মজবুত করে তাই এগুলো খাবার চুল ঘন করে তুলতে সহায়তা করে।

biQdoS5

৭। মেথি

আমরা অনেকেই জানিনা যে মেথি ব্যবহার করেও পাতলা চুল ঘন করা যায়। মেথি এক ধরনের মৌসুমী গাছ যার পাতা শাক হিসাবে আমরা গ্রাম-বাংলার মানুষেরা খেয়ে থাকি। আবার মশলার ৫ ফোড়নের একটি উপাদান এই মেথি।  লোকজ, ইউনানী ও কবিরাজী চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ঘরে মানুষ মেথি ব্যবহার করে আসছে।

মেথি কিভাবে চুলে ব্যবহার করা যায় ?

১মুস্টি মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন সকালে তা ঠান্ডা পানি দিয়ে ছাঁকনি করে পেস্ট বানিয়ে ২০-৩০ মিনিট চুলের গোড়ায় ভালোভাবে লাগিয়ে রাখবেন । ৩০ মিনিট অতিক্রম হয়ে গেলে সুগন্ধির জন্য আপনি সাবান অথবা শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে পারবেন। এভাবে সপ্তাহে ১ বার করে ব্যবহার করলে আশাকরি আপনি দারুন ১টি ফলাফল পাবেন ।

জেনে রাখা ভালো যে, মেথি শুধু চুল পড়া রোধে আর চুল ঘন করার উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়না। মেথি মাথার খুশকি তাড়ানোর জন্যেও অনেক উপকারী।

RLa8PTZ

৮। ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরার আরেক নাম ঘৃতকুমারী। অনেকেই হয়তো তা জানতেন না, প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে এটি অন্যতম একটি প্রাকৃতিক হাইলাইটার। মানব দেহের ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা নিরাপদ। প্রাচীনকাল থেকেই অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী সমাদৃত উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

প্রাকৃতিক এই অ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ত্বকের বয়সের ছাপ পড়া ট্যান দূর করা, ব্রণের দাগ দূর করার মত নানা ধরনের সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা হচ্ছে, এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকে আসে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা যা অনেকটাই হাইলাইটারের মত মনে হবে।

রূপচর্চায় অ্যালোভেরা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে । তাই আপনি চুল পড়া রোধে এবং চুল ঘন করার জন্যেও অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। আবার পাতলা চুল ঘন করতে এগুলোর পাশাপাশি অনেকে পেঁয়াজের রস, ক্যাস্টর অয়েল, অ্যালোভেরা জেল, নারিকেল তৈল, শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করে আসছেন।

LTFMJXo

৯। মেহেদি বা মেন্দি পাতা

সবশেষে মেহেদি পাতার বিষয়ে বলব। মেহেদি পাতা বা মেন্দি পাতা মাথার চুলে ব্যবহার করেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যেন দূর্ল্ভ ব্যপার। চুলের গোড়া শক্ত করতে, চুল পড়া বন্ধ করতে, পাতলা চুল মোটা বা ঘন করতে, মাথার খুশকি দূর করতে আমরা প্রায় কম-বেশি সবাই মেহেদি পাতার রস ব্যবহার করে থাকি। এটি চুলের সব রকমের সমস্যা দূর করতে সেরা অপশন হিসেবে সর্বদা কাজ করে থাকে। এবং বাস্তবেও তা সকলের কাছে প্রমানিত।

তাই আপনি সবগুলোর পাশাপাশি মেহেদী পাতাও ব্যবহার করতে পারেন।

আশা করি উপরিউক্ত ৯টি উপাদান আপনার চুলের সব রকমের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করবে এবং তা সব শ্রেনির মানুষের জন্যই প্রযোজ্য।

প্রিয় পাঠক, এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে কিংবা সামান্যতম উপকারে আসবে বলে মনে হয়, তাহলে পোস্টটি ফেইসবুক এবং মেসেঞ্জারে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। এবং এই টপিকের বিভিন্ন ভিডিও দেখতে পারেন।

এতক্ষন সময় দিয়ে পোস্টটি পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *