খুব বেশি ভালোবাসি (01)
Bangla Love story 2021

খুব বেশি ভালোবাসি (01)

সূচিপত্র

খুব বেশি ভালোবাসি

কিছু মুহূর্ত একান্ত আমার
কিছু খুশি কেবল আমার
কিছু মন খারাপ একান্ত নিজের।

কোনো এক মধ্য রাতে নিস্তব্ধ,
নিরব পরিবেশে,
আপন রাজ্যের অধিপতি হয়ে,
বেঁচে থাকার মত কিছু মুহূর্ত।

খুব বেশি প্রিয়,
আকাশের বিশালতার কাছে নিজেকে প্রকাশ করার মত কিছু অপ্রকাশিত কিছু আবেগ।

নিজেকে অপরিচিত, আগন্তুক রূপে
আবিষ্কার করার মত কিছু বিস্ময়কর,
বিস্ফোরণ।

আমি যেমন আছি,তেমন আদলে
পূর্ণতা খুঁজে নেয়ার মত কিছু আপন,
একান্ত আমার মত করে সাজিয়ে নেয়া কিছু প্রহর।
খুব বেশি প্রিয়,
খুব বেশি ভালোবাসি।

কেউ হুট করে চলে যায় না. মানুষ চলে যায় ধীরে ধীরে… আস্তে আস্তে সে জানিয়ে দিতে থাকে আমি আর খুব বেশি দিন তোমার সাথে নেই !!

রচনা টাইপের মেসেজ দেয়া মানুষটার মেসেজ যদি ছোট হয়ে এক/দুই শব্দের মধ্যে আসে তাহলে বুঝে নাও সে চলে যাচ্ছে… কোনো একদিন হয়তো আর তোমার মেসেজও সীন করা হবে না !!

যে তোমার সাথে বিনা কারণেই ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতে পারতো সেও এখন কথা বলা কমিয়ে দিয়েছে, তাহলে বুঝে নাও সেই মানুষটা চলে যাওয়ার সংকেত দিচ্ছে… এরপর হয়তো তোমার ফোনও রিসিভ করবে না !!

তোমাকে একদিন না দেখলে অস্থির হয়ে যেতো কিংবা নিজেই তোমার কাছে চলে আসতো, অথচ এখন যদি সে তোমার কোনো খবরই না রাখে, তাহলে বুঝে নাও তার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে… সে আর তোমার নেই !!

কেউ ছেড়ে চলে গেলে কিংবা বদলে গেলে আমরা মেনে নিতে পারি না… আমরা এর কারণ খুঁজতে থাকি… আসলে মানুষ তখনই চলে যায় কিংবা বদলে যায় যখন সে বুঝতে পারে তার সাথে অপর মানুষটা ভালো থাকতে পারবে না !!

ভালোবাসতে কোনো কারণ লাগে না, কিন্তু ভালো থাকতে না পারলে অনেকগুলো কারণ এসে হাজির হয়… কোনো মানুষ চায় না তার কারণে অন্য কেউ একজন ভালো থাকা থেকে বঞ্চিত হোক… কেউ নিজ স্বার্থের জন্য চলে যায়, কেউ অপর মানুষটার জন্য নিজেকে বদলে ফেলে !!

কেউ তোমার জীবন থেকে সরে আসছে মানে এই নয় যে, সেই মানুষটা খারাপ… বরং সেই মানুষটা তোমাকে নতুন করে আবার শুরু করার স্বাধীনতা দিলো… যে তোমার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না তাকে তুমি যতই ভালোবাসো না কেনো, তার মন স্পর্শ করবে না !!

পাখিদের খাঁচায় জোড় করে আটকে রাখা যায়, কিন্তু মানুষকে জোড় করে আটকে রাখা যায় না… কাউকে জোড় করে রাখার চাইতে মুক্ত করে দেওয়াই ভালো… কারণ যে থাকবে তাকে জোড় করে আটকে রাখতে হয় না, বিনা কারণেই থেকে যায় !! খুব বেশি ভালোবাসি।

ভালোবাসার মানুষ সম্পর্কে যত কম জানবেন, তার প্রতি আগ্রহ তত বেশি থাকবে। সব জেনে যাওয়ার মানেই সকল আগ্রহের পরিসমাপ্তি।

যত বেশি জেনে যাবেন, দেখবেন, ধীরে ধীরে তার প্রতি তৈরী হচ্ছে অনাস্থা, অবিশ্বাস আর ভরসাহীনতা। অনাগ্রহ বা নিঃস্পৃহতার অশুভ সূচনাও সেখান থেকেই।

একটা সময় পর গিয়ে দেখবেন, গভীর থেকে গভীরতর কোনও সম্পর্কও কাচের গ্লাসের মতো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। মন সেসময় গভীর অসুখে ডুবতে থাকে। আহা, বাঁচতে বড়ো কষ্ট হয় তখন!

সৌন্দর্য দেখতে হয় দূর থেকে, যত কাছ থেকে দেখবেন, তত বেশি ত্রুটি ধরা পড়বে। সৌন্দর্যের বিচার হয় অখণ্ডতায়, ‘খণ্ডিত সৌন্দর্য’ বলে কিছু নেই।যে ছবি যত বেশি জুম করবেন, সে ছবির ফাটা দাগ তত বড়ো বড়ো করে দেখা যাবে। ছবির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ছবিকে দেখতে হয় সামগ্রিকভাবে, ভেঙে ভেঙে নয়।

এজন্য দাগ দেখতে না চাইলে ছবি জুম করতে নেই, এবং মানুষ সম্পর্কেও বেশি জানতে নেই। জানলে উলটো নিজের মধ্যেই মানসিক যন্ত্রণা বাড়তে থাকবে। যে ছবিটা ডিলিট করতেই পারবেন না, সে ছবিটা জুম করে দেখেও-বা কী হবে কিছু আফসোসের বৃদ্ধি ছাড়া! সরান ও সরুন, কিংবা মানান ও মানুন। ব্যস! মাথায় রাখুন, পৃথিবীতে কারুর‌ই সবকিছু আপনার মনের মতো হবে না। আপনার‌ও সবকিছু কারুর মনের মতো নয়।

খেয়াল করলে দেখবেন, শারীরিক সৌন্দর্যের টানে আমরা কার‌ও কাছে গেলেও, পরবর্তীতে মানসিক সৌন্দর্যটাই বড়ো হয়ে দাঁড়ায়। সে মানুষটা মানসিকভাবে ঠিক কতটুকু সুন্দর, ব্যাপারটার গুরুত্ব তখন তার শারীরিক সৌন্দর্যকে বহুগুণে ছাড়িয়ে যায়। মূলত মনের টানেই দুজন মানুষ পাকাপোক্তভাবে বাঁধা পড়ে।

এজন্যই অনিন্দ্যসুন্দর দুজন মানুষ‌ বিয়ে কিংবা সম্পর্কে জড়ানোর পরও কখনও কখনও তা দুবছরও টেকে না। প্রকৃত সৌন্দর্য বরাবরই দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়। সময় হলে সময় মুখ খোলে।
আবার অসুন্দর নিতান্তই সাদামাটা কোনও দুজন মানুষের সম্পর্ক টিকে যায় দুযুগ কিংবা তারও বেশি। শরীরের টানের পরিসমাপ্তি যেখানে, সেখান থেকেই মনের টানের অপূর্ব সূচনা। আর যদি সে সূচনার কোনও সুযোগ না থাকে, তবে সম্পর্কের ইতি সেখানেই।

অভিজ্ঞতা বলে, মানুষ সম্পর্কে কম জানাই মানুষের প্রতি ভালোবাসাকে অক্ষুণ্ন রাখার শ্রেষ্ঠ পথ। জানতে হয় মানুষের মনটাকে, বাহ্যিক অভ্যেসগুলিকে নয়। শরীরের সতীত্ব খুঁজতে খুঁজতে মানুষ মনের সতীত্বের খোঁজটা আর পায় না।

যাকে ভালোবাসেন, সে নেশা করে, কিংবা সম্পর্কের বাইরে গিয়ে অন্য কারও সাথে ফ্লার্ট করে, অথবা মানুষটি বেশ অহংকারি বা জেদি। এমন ব্যাপারগুলো সম্পর্কে ঢোকার আগে জানতেন না বলেই তাকে বড়ো সুন্দর লাগত। সময়ের প্রবাহে যখন ধীরে ধীরে ব্যাপারগুলো জানতে ও বুঝতে শুরু করবেন, তখনই কাটতে শুরু করে মোহের বিস্তৃত জাল। তখন মানুষটিকে আর আগের মতো সুন্দর লাগবে না; দেখবেন, আগের মতো মোহিত করছে না তার মিষ্টি কথা, প্রেমালাপ কিংবা আরও অনেককিছুই। গভীরতাতেই যত কষ্টের আবাদ। তবুও বলব খুব বেশি ভালোবাসি।

একসময় আবিষ্কার করবেন, তার পুরনো একটা ছোট্টো মেসেজ আপনাকে যতটা আন্দোলিত করত, আনমনেই ফিক করে হেসে বলতেন, ‘আমার পাগলটা!’, এখন আর আগের মতো তার কোনও কিছুই আপনাকে উদ্বেলিত করছে না। এমনকি সেই একই মেসেজ দেখে ভ্রু কুঁচকে আনমনেই বলে উঠছেন, ‘ধুর ছাই!’।

সম্পর্ককে বাঁচাতে চাইলে যত্ন নিতে হয়। বদলাতে হয় এবং বদলেও যেতে হয়। যে সম্পর্ক আপনাকে বদলাতে পারে না, কিংবা নিজ থেকেই আপনি পালটে যাচ্ছেন না যে সম্পর্কে, তখন ধরে নেবেন, আপনি আদতে কোনও সম্পর্কেই নেই। স্রেফ একটা সময়ের চুক্তিতে আবদ্ধ আছেন মাত্র, যে চুক্তিটি শেষ হয়ে যাবে মেয়াদ ফুরলেই। কিংবা তারও আগে! অবশ্য দুপক্ষের এতে আপত্তি না থাকলে এমন সম্পর্কে থেকেও আনন্দে বাঁচা যায়। বরং, স্রেফ কামের সম্পর্কে প্রেম এলেই শুরু হয় যত বিপত্তি।

কাউকে জাজ করে লাভ নেই। সে কখনও আপনার মনের মতো করে নিজেকে বদলে ফেলবে না, বড়োজোর বদলে ফেলার অভিনয় করতে পারে নেহায়েত বাধ্য হলে। যদি তার সাথে থাকতেই চান, তবে তাকে গ্রহণ করার মতো নিজের মনটাকে তৈরি করে ফেলুন, কিংবা ভিন্ন পথে হাঁটুন।

অন্য কাউকে বা নিজেকে অশান্তিতে রেখে বাঁচার মতো অতটা বড়ো জীবন সঙ্গে দিয়ে আমাদের এ পৃথিবীতে পাঠানো হয়নি। মুখে হাসি রেখে তাকে রাখুন, কিংবা মুখে হাসি আনতে তাকে ছাড়ুন। যে যার মতো। তাকে তার মতো থাকতে দিন, আপনিও থাকুন আপনার নিজের মতো। সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার এটিই সবচেয়ে ভালো রাস্তা। তাই খুব বেশি ভালোবাসি।

বন্ধু হতে হলে খুব বেশি কি দরকার
বন্ধু হতে হলে খুব বেশি কি দরকার,
প্রতিটা মুহূর্ত কাছে থাকা?
বন্ধু হতে হলে কি খুব বেশি দরকার,
প্রতিটা দিন যোগাযোগ রাখা?
না তো! দরকার নেই।
আমার বন্ধু টা না হয় সেদিন হঠাৎ করে আসুক,
যেদিন আমার কষ্ট রা বুকে আধাঁর জমাবে।
আমার বন্ধু টা না হয় সেদিন হঠাৎ করে আসুক,
যেদিন একাকীত্ব আমায় ভীষন যন্ত্রনা দিবে।
আমার বন্ধু টা না হয় ভরসা হোক,
আমার হতাশার শহরে।
আমার বন্ধু টা আমায় খুঁজে নিক,
হাজার লোকের ভীড়ে।
আমার না বলা কথা গুলো,
তার মুখে বৃষ্টি হয়ে ঝরুক।
আমি ভুলের পাহাড় গড়লে,
সে ভাংচুর শুরু করুক।
এই অচেনা দুনিয়াতে,
আমার বন্ধুই পরম সত্য।
খুব যত্ন করে সবাই যেনো বলে,
এভাবেই টিকে থাকুক বন্ধুত্ব!

তাই খুব বেশি ভালোবাসি।

ভালোবাসার প্রস্থান

সে জানে আমি তাকে ঠিক কতোটা ভালোবাসি,
আমি তাঁর জন্য নিজেকে কতোটা পোড়ায়,
আমার নির্ঘুম রাতের সাক্ষী সে নিজেই।

স্বচক্ষে দেখেছে সে আমার নিদারুণ আর্তনাদ,
আমার বুক ফাটা যন্ত্রণা,
থামাতে না পারা তীব্র কান্না,
আর কুঁকড়ে যাওয়া আমাকে।

সে জানে আমার সমস্তটা জুড়ে তাঁর বসবাস,
আমি তাঁর জন্য নিজেকে আঘাত করি,
আমার প্রতি মূহুর্ত বিষ-যন্তনার,
বয়ে যাওয়া নদীর দীর্ঘ ক্ষত,
জর্জরিত আমির মৃত চিৎকার তাঁর কানে গিয়েছিলো।

সে তবুও ছেড়ে চলে গিয়েছে,
জেনেও ফেলে গিয়েছে,
আঘাতের ক্ষত আরও বাড়িয়ে দিয়ে গেছে,
আমাকে সে বাঁচতে দিতে চায় নি,
আমার মৃত্যু সংবাদ তাঁর কাছে,
পৃথিবীর সবচেয়ে সুখের বিষয়।
অথচ আমি তাঁর জন্য গড়ি,
তাঁর জন্য মরি।

Related Postআধুনিক যুগের ভালোবাসা ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *