মৃত্যু পর্যন্ত ইবাদতের হুকুম (1)
"আর আপনার মৃত্যু আসা পর্যন্ত, আপনি আপনার রবের ইবাদাত করুন।" [সুরা-হিজর, আয়াত-৯৯]

মৃত্যু পর্যন্ত ইবাদতের হুকুম (1)

মৃত্যু পর্যন্ত ইবাদতের হুকুম:

‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন-
“আর আপনার মৃত্যু আসা পর্যন্ত, আপনি আপনার রবের ইবাদাত করুন।”
[সুরা-হিজর, আয়াত-৯৯]

সংক্ষেপকৃত তফসীর- এখানেও পবিত্র কুরআন (যে শব্দটি) ব্যবহার করেছে, তা আরবি- (ইয়াকীন) শব্দ। সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম “(ইয়াকীন) শব্দটির তফসীর করেছেনঃ ‘মৃত্যু’।”
[বুখারী শরীফ : ৪৭০৬]
—কুরআন ও হাদীসে ইয়াকীন’ শব্দটি মৃত্যু অর্থে ব্যবহার হওয়ার বহু প্রমাণ আছে।
পবিত্র কুরআনে এসেছেঃ

“তারা বলবে, আমরা মুসল্লীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করতাম না, এবং আমরা বিভ্রান্ত আলোচনাকারীদের সাথে বিভ্রান্তিমূলক আলোচনায় নিমগ্ন থাকতাম। আমরা কর্মফল দিন অস্বীকার করতাম, শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছে (ইয়াকীন) মৃত্যু এসে যায় “
[সূরা আল-মুদাসসিরঃ আয়াত- ৪৩-৪৭]

অনুরূপভাবে হাদীসে এসেছে,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনে মাযউন এর মৃত্যুর পর তার সম্পর্কে বলেছেনঃ

“কিন্তু সে ! তার তো (আরবি- ইয়াকীন) তথা মৃত্যু এসেছে, আর আমি তার জন্য যাবতীয় কল্যাণের আশা রাখি।”
[বুখারী শরীফ : ১২৪৩]

সুতরাং বুঝা গেল যে, এখানে (আরবি-ইয়াকীন)) শব্দের অর্থ মৃত্যুই। আর এ অর্থই প্রায় সমস্ত মুফাসসেরীনদের থেকে বর্ণিত হয়েছে।

সে হিসেবে প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদত করে যেতে হবে।
যদি কাউকে ইবাদত থেকে রেহাই দেয়া হতো, তবে নবী-রাসূলগণ তা থেকে রেহাই পেতেন, কিন্তু তারাও তা থেকে রেহাই পাননি।

তারাও আমৃত্যু আল্লাহর ইবাদত করেছেন এবং (নিজ নিজ উম্মতকে) ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
—————[আবু বকর জাকারিয়া]

পৃথিবীর সর্বোত্তম কথা কোনটি?

ইসলামের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সর্বোত্তম কথা হলো কালিমাতুত তাইয়্যেবা তথা আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এ কথা বলা।

রাসুল [সা.] বলেছেন, মুসলিম সে, যার ভাষা ও কর্ম থেকে মুসলমানেরা নিরাপদ থাকে। [সহিহ বোখারি]।

রাসুল [সা.] আরো বলেছেন, ভাষার ফসলই মানুষকে জাহান্নামে উপুড় করে নিক্ষেপ করবে। [তিরমিজি]।

এ ছাড়াও কোরানের বহু আয়াত ও হাদিসে মন্দ কথা উচ্চারণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যারা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি ইমান রাখেন, মন্দ কথা থেকে বিরত থাকা তাদের ইমানি দায়িত্ব।

আল্লাহ তায়ালা নবিজিকে সম্মোধন করেন বলেছেন, হে মোহাম্মদ, আমার বান্দাদের বলো, তারা যেন মুখ হতে সে সব কথাই বের করে যা অতি উত্তম। আসলে শয়তানই মানুষের মধ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করে থাকে। প্রকৃত কথা হলো, শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্র“।

[বনি ইসরাইল : ৫৩]

আরো পড়ুন: তাহাজ্জুদ নামায কিভাবে পড়বেন জেনে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.