আধুনিক যুগের ভালোবাসা (101)
আধুনিক যুগের ভালোবাসা

আধুনিক যুগের ভালোবাসা (101)

আধুনিক যুগের ভালোবাসা:

যে মানুষটা তোমার অতীত জেনেও তোমার পাশে থাকছে, তোমাকে ভরসা দিয়ে যাচ্ছে, সেই মানুষটা ব্যতীত তুমি অন্য কাউকে নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখো না !!

কেউ অতীত জেনেও তোমার পাশে থাকবে, এমন মানুষ আজ খুব একটা নেই. সবাই নতুন চায়, ভাঙা মনে কেউ আজ স্বপ্ন দেখাতে চায় না, ভালোবাসতে চায় না. সবাই এমন একজনকে চায় যার সাথে অতীতের কোনো সম্পর্ক নেই !!

মানুষের অতীত থাকতেই পারে এটা অনেকে স্বাভাবিক ভাবে দেখে না. কারো অতীতের কথা শুনলেই মানুষ আগে থেকেই পিছুপা হয়ে যায়. কেউ ভালোমন্দ যাচাই করতে আসে না. সবার একটাই ধারণা, অতীত আছে মানেই মানুষটা খারাপ !!

অতীত থাকা মানেই খারাপ কিছু নয়. সব অতীতই খারাপ হয় না. অনেকের এমন অতীত রয়েছে যার কারণে মানুষটা অনেক কিছু শিখেছে. বাস্তবতা বুঝেছে, আবেগ এখন আর মানুষটাকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে না. নিজের উপর নির্ভরশীল হয়েছে !!

মানুষ যেমন ভুল থেকে শিক্ষা নেয় তেমনিভাবে অতীতের ভুল থেকেও মানুষ বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ এর জন্য নিজেকে সঠিক রাখতে পারে. ভেঙে যাওয়া মানুষের মাঝে ভালোবাসা কম থাকে না, বরং তারাই বেশি ভালোবাসতে জানে. আগলে রাখতে জানে !!

ছেড়ে যাওয়ার যুগে কেউ অতীত জেনেও তোমার পাশে আছে কিংবা থাকতে চায়, তাহলে ঐ মানুষটাকে ভুল ভেবো না. মানুষটা সত্যিই তোমাকে চায়. কারণ মানুষটা সবকিছু ভেবেই তোমার পাশে আছে. এমন মানুষ পাওয়া বড় ভাগ্যের ব্যাপার !!

হারিয়ে ফেলো না সেই মানুষটাকে যে তোমার অতীত জেনেও তোমার পাশে আছে. অতীত জেনেও যারা পাশে থাকে তারা অভিনয় করতে আসে না, বরং তারা অতীতকে ভুলিয়ে দিয়ে নতুন করে বাঁচতে শিখায়. এরা বড় মনের মানুষ !!

নতুন কারোর মায়ায় পড়ে সাথের মানুষটিকে অবহেলা করো না. নতুন মানুষটা কিন্তু তোমার অতীত জানে না. অথচ সাথের মানুষটা সবকিছুই জেনে তোমার পাশে রয়েছে. নতুন মানুষটার প্রতি মায়া একটা সময় কেটে যাবে, তখন নিজেই হারিয়ে ফেলা মানুষটাকে খুঁজবে, কিন্তু তখন আর খুঁজে পাবে না. হারিয়ে ফেলবে !! 

আধুনিক যুগের ভালোবাসা ? বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা প্রেমিক পুরুষের মুখে “ভালোবাসি” শব্দ টা আগে শুনার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে, আধুনিক যুগের ভালোবাসা.

মেয়েরা লাজুক হয়, তারা বড্ড অভিমানী,তারা খুব বেশি আবেগি হয়,তারা দূর্বল মনের হয়,
তারা প্রিয় মানুষ টির ধারে-কাছে শত গজের ভিতরেও নিজের থেকে সুন্দরী কাউকে মন থেকে মেনে নিতে পারেনা।

তারা সবসময়ই প্রিয়জনকে শুধু নিজের করে পেতে চায়, তারা ভালোবাসা ভাগাভাগির ব্যাপারে বড্ড হিংসুটে হয়,
জীবনের বিনিময়ে হলেও তারা নিজের ভালোবাসার হিসাব টা ঠিক বুঝে নেয় নিজের মতো করে।

ভালোবাসার এই কঠিন হিসাব টা মেয়েরা খুব ভালো করে মিলাতে পারে, এতে কখনো ভুল করে না, হয়তো কখনো- সখনো তারা হেরে যায় আসল মানুষ টাকে খুঁজে নিতে, তারা হেরে যায় ভালোবাসার আসল সঙ্গাটা মিলাতে,তারা হেরে যায় নিয়তির কাছে, তারা হেরে যায় নিজের কাছে।

নারীদের সম্মান করো,ভালোবাসো, স্নেহ -মায়া মমতা দিয়ে বুকে আগলে রাখো, দেখো,
তারা তোমাকে জীবনের সবটুকু উজাড় করে দেবে, বলা যেতে পারে নারী হলো এক প্রকার
কাল-নাগিনীর মাথায় মুকুট। যাকে দেয়, তাকে দিয়েই যায়,আর যার থেকে কেড়ে নেয় তাকে ধ্বংস এবং শূন্য করে ছেড়ে দেয়।

তবে হ্যাঁ,
হাতের পাঁচ আঙুল এক সমান নয়,
এখানেই বিবেচনার বিষয়।

মুখে ভালোবাসি বললেই সত্যি ভালোবাসা হয়ে যায় না।

আধুনিক যুগের ভালোবাসা ? মুখে কেবল ভালোবাসি ভালোবাসি বললেই সত্যি সত্যি ভালোবাসা হয়ে যায় না। ভালোবাসলে তা কর্মেও প্রকাশ কর‍তে হয়। ভালোবাসলে প্রিয় মানুষের হাতটা শক্ত করে ধরে ভরসা দিতে হয়। চোখে চোখ রেখে আশ্বাস দিতে হয়।

ভালোবাসলে দায়িত্ববান হতে হয়। হাতটা শক্ত করে ধরে রাস্তা একসাথে রাস্তা পাড় হওয়া থেকে শুরু করে শেষ নিশ্বাস অব্দি অই হাতটা ধরে রাখবার মত দায়িত্বশীল হতে হয়। যে কোন সমস্যায় পাশে এসে দাড়িয়ে বলতে হয় আমি আছি তো, ভেবো না এত। সব ঠিক হয়ে যাবে ।

ভালোবাসলে স্বার্থপর হতে হয়, খুউউউউব বেশি ই স্বার্থপর হতে হয় প্রিয় মানুষটার ক্ষেত্রে। প্রিয় মানুষটা কে আঁকড়ে ধরে লুকিয়ে রাখতে হয়। প্রিয় মানুষটাকে হারাবার ভয়ে ভীত থাকতে হয়৷যাতে করে প্রিয় মানুষটা কোনভাবেই হারিয়ে না যেতে পারে বা অন্য কেউ এসে ভাগ না বসাতে পারে। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে আগলে রাখতে হয়।

ভালোবাসলে সাহসী হতে হয়। বলতে গেলে একদম দুঃসাহসী হতে হয়৷ প্রিয় মানুষের হাতটা ধরে সবার সামনে নিয়ে যাওয়ার মত সাহসী হতে হয়। পরিবার-সমাজ সবার সাথে যুদ্ধ করে হলেও প্রিয় মানুষটা কে জয় করে নেবার মত সাহসী হতে হয়।

ভালোবাসলে খুব বেশি করেই ভালোবাসতে হয়। ভালোবাসার মত করে ভালোবাসতে হয়। যাতে লোকে দেখে বলে, ” এমন ভালোবাসাও হয়!”

জীবনে কিছু মানুষ আসবেই তোমাকে ভুল প্রমাণ করতে। কিছু মানুষ সবসময়ই তোমার দোষ খুঁজবে। আর কিছু মানুষ আসবে তোমার যোগ্যতা নিয়ে কথা বলতে তোমাকে ভাঙ্গতে, তোমাকে সবার সামনে নিচু করতে।

কিন্তু তোমাকে সবার সামনে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে না।তোমাকে নিজের ব্যাক্তিত্ব বজায় রাখতে হবে। কেননা যোগ্যতা কখনই প্রমাণ করার মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। একজন যোগ্য ব্যাক্তি কখনই তোমার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না। তোমাকে নিয়ে পরে থাকবে সেসব মানুষ জন যারা তোমার কাছ থেকে অনেক নিচের অবস্থানে আছে।

জীবনে অনেক মানুষ আসবে যারা তোমাকে নিয়ে নেগেটিভ কথা বলবে অনেক ভাবে অপমান আর ছোট করতে চাইবে, তোমাকে দমিয়ে রাখতে চাইবে কিন্তু তোমাকে তাদের কথা চিন্তা করে হতাশ হয়ে থেমে থাকলে চলবে না। তোমাকে যেতে হবে আরো বহু দূর। তোমার সফলতাতেই তারা তাদের উত্তর খুঁজে পাবে।

কিছু কিছু সময় তোমার আই ডোন্ট কেয়ার মুড এই থাকতে হবে। জীবনে যা ঘটবে সে সব কিছু গ্রহণ করার মতো সৎ সাহস তোমার থাকা লাগবে।

নিজের যোগ্যতা তুলে ধরতে হয়তো সার্টিফিকেট প্রয়োজন কিন্ত যোগ্যতা প্রমাণ করতে সার্টিফিকেট নয়, নিজের মেধা আর চেষ্টা প্রয়োজন!

জীবনে অনেক কিছুই আসবে তোমাকে থমকে দেয়ার জন্য।কিন্তু সে সব বিষয় নিয়ে তোমার ভাব্বার দরকার নেই। দিন শেষে কেউ এসে তোমার মন ভালো করে দিয়ে যাবে না,কেউ তোমাকে উৎসাহ দিয়ে যাবে না।

তোমার নিজেকেই নিজের জন্য লড়তে হবে প্রতিনিয়ত। তবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে নয়, নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলে। দিন শেষে তোমার নিজের জন্য নিজের লড়াই করার মতো মনোবল তৈরি করতে হবে প্রতিদিন।

আর এর জন্য নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আর আত্মসম্মান বোধ টা হয়তো একটু বেশিই জরুরী! এই হলো সংক্ষেপে আধুনিক যুগের ভালোবাসার নমুনা ?✌

Related Postভালোবাসা কাকে বলে ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *